898 898 8787

স্বল্প খরচে সম্পূর্ণ শারীরিক চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রয়জনীয়তা - MyHealth

Bengali

স্বল্প খরচে সম্পূর্ণ শারীরিক চিকিৎসা এবং দৈনন্দিন জীবনে এর প্রয়জনীয়তা

author

Medically Reviewed By
Dr. Ragiinii Sharma

Written By Srujana Mohanty
on Sep 19, 2022

Last Edit Made By Srujana Mohanty
on Mar 17, 2024

share
Full Body Check up in Bengali
share

কথায় আছে শরীরের নাম মহাশয় যাহা সোয়াবেন তাহা সয় কিন্তু সম্প্রতি শেষ কয়েকটি বছর কোভিড এর দাপটে আমরা সবাই কিছুটা দিশেহারা । শরীর সম্পর্কে সচেতন হলেও এই মহামারীতে আমরা এটি ভাবতে বাধ্য হয়েছি যে সত্যিই কি শারীরিক ভাবে আমরা সব দিক দিয়ে সুস্থ্য ? আমরা সকল দিক দিয়ে সুস্থ্য কিনা বুঝবো কি করে এই একটি কথা সর্বদায় মনে হয় । তাই একটি বিস্তৃত ও সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা আমাদের এই চিন্তা - বিভ্রান্তি দূর করতে পারে আর স্বাস্থ্য এবং সুস্থতার যত্ন নেওয়ার জন্য যেসব বিষয় আমাদের মেনে চলা উচিত সেটির একটি সম্পূর্ণ ধারণা দিতে পারে । আর শারীরিক বিষয় নিয়ে কখনোই অসাবধান হওয়া উচিত নয় তাই সকলেরই উচিত সম্পূর্ণ শারীরিক চিকিৎসা করা ।

আসুন জেনে নিই 'স্বাস্থ্য পরীক্ষা' এত জরুরি কেনো 

আমরা কিছুটা অভ্যাস বসেই শারীরিক কিছু সমস্যা হলে প্রাথমিক চিকিৎসার মাধ্যমে সেটিকে সেরে তোলার চেষ্টা করি । কিন্তু এটা ভুলে যাই যে সামান্যতম শারীরিক সমস্যা পরবর্তী সময়ে বৃহৎ সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে । শরীর যে সাভাবিক ভাবে কার্যকর কিনা সেটি দেখার বা মূল্যায়ন করার জন্য সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করা খুব জরুরী। শরীরের কোনো সমস্যা হলে অথবা কোনরকম রোগের লক্ষণ দেখা দিলে বা কি রোগ হয়েছে সেটি জানার জন্য তারা শরীরের বিভিন্ন প্যারামিটার গুলি পরীক্ষা করতে বলেন । তাদের কথায় ৩০ বছরের ঊর্ধ্বের লোকেদের জন্য বার্ষিক ভাবে এবং ৩০ বছরের কম বয়সীদের জন্য দুই বছরে একবার সম্পূর্ণ শরীরের চিকিৎসা করা প্রয়োজন। 

 বয়স বাড়লে শরীরে বিভিন্ন রকম অসুস্থতা দেখা দিতেই পারে তাই বলে এই নয় যে সেটিকে আমরা হারাতে পারবনা । আমাদের যেসব শারীরিক জটিলতার সম্ভাবনা দেখা যায় তা এই শরীর পরীক্ষা করলে সেই সব সমস্যা ডাক্তারদের পরামর্শে সহজেই হ্রাস পায় এবং আমরা তাদের কাছে জানতে পারি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কি করা উচিৎ ,কি কি অভ্যাস ত্যাগ করা উচিত এবং কি কাজ করলে আমরা সঠিক ভাবে সুস্থ্য ও স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করতে পারবো ।

 এমন যদি হয় যে আমাদের শরীরে কি রোগ হয়েছে বা কোনরকম শারীরিক সমস্যা থেকে কি কি ক্ষতি হতে পারে সেটি আমাদের প্রথমেই ইঙ্গিত দেওয়া হয় তাহলে আমাদের অনেক সুবিধা হয় তাই নয় কি । আসলে নির্দিষ্ট সময় মতো শরীর পরীক্ষা করলে এই গুলি খানিকটা সহজেই বলে দেওয়া সম্ভব এবং এতে আমরা আরো বেশি সংযত এবং সাবধানতা অবলম্বন করতে পারবো । সব থেকে বড় কথা আমাদের সেই রোগ নির্ণয় করে সময় মতো ডাক্তাররা চিকিৎসার অনুমতি দেন ।

 সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা একটি ডায়াগনোসিস সেন্টার বা ল্যাব-তে করার পর আমাদের শরীরের কোনো রোগ বা অন্য কোনো সমস্যা সম্মন্ধিত একটি রিপোর্ট দেওয়া হয় । এরপর সেই রিপোর্ট-টি ডাক্তাররা বিশ্লেষণ করেন এবং পরামর্শ দেন কি ভাবে চললে আমরা রোগের প্রতিকার পাবো এবং অসুখ থেকে দূরে থাকতে পারবো । আর এই ভাবেই শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক চাপমুক্ত হয়ে আমরা সুখী ভাবে জীবনযাপন করতে পারবো ।এই সবের 

 জন্য এই একটি পরিকল্পনা করা যেতেই পারে।

তবুও আমাদের মনে একটু সংশয় থেকেই যায় যে কোথায় এই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করলে ভালো হয় । কোথায় আমরা সঠিক তথ্য পাবো এবং কোথায় আমাদের সঠিক ভাবে চিকিৎসা ব্যবস্থা প্রদান করা হবে । কিন্তু সেই সংশয় এখন আর থাকার নয় , বর্তমান ভারতে যদি নির্বিঘ্নে নিঃসন্দেহে কোথাও আমরা স্বাস্থ্য চিকিৎসা করতে পারি সেটি হলো রেডক্লিফ ল্যাব ( Redcliff Labs ) ডায়াগনোসিস সেন্টার । এটি সমগ্র ভারতে ১২০ এরও বেশি শহরে শাখা খুলতে সক্ষম হয়েছে এবং এটি এই মুহূর্তে সব চেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল পরিষেবা প্রদান করতে সক্ষম । রোগীর সুবিধার জন্য যেসব পরিষেবা গুলি প্রয়োজন সেগুলি এই সেন্টার মাথায় রেখে সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করেছে । যেমন একজন রোগীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমস্ত রকম পরিষেবা , বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ করা এবং সেটি সঠিক ভাবে বিশ্লেষণ করে রোগীকে জানানো । সমস্ত কাজ বিশেষ ভাবে অনুভাবি ডাক্তার এর নির্দেশে সম্পন্ন করা হয় যাতে কোনো রকম ত্রুটি না হয় । 

 এই রেডক্লিফ ল্যাব ( Redcliff Labs) ডায়াগনোসিস সেন্টার তে সমস্ত রকম শারিরীক পরীক্ষা করতে অত্যাধুনিক ডিজিটাল যন্ত্র এর ব্যবহার করা হয় । যার কারণে ছোট থেকে ছোট সামান্যতম রোগ নির্ণয় করতে সুবিধা হয় এবং নির্ভুলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে ।

স্বল্প মূল্যে অত্যাধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে নির্ভুলভাবে শরীরের পরীক্ষা এবং তার সঠিক রিপোর্ট সরবরাহ করতে রেডক্লিফ ল্যাব ( Redcliff Labs ) ডায়াগনোসিস সেন্টার-এর তুলনা নেই ।আর সেই জন্যই এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে ।

একটি ফুল বডি চেকআপ তে কি কি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত থাকে?

 একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা একজন ব্যক্তির শরীরের প্রধান সমস্যা গুলি সনাক্ত করতে সাহায্য করে এবং তার মূল্যায়নও করে । তবে এই শারীরিক পরীক্ষায় কি কি করতে হয় এবং তার জন্য যে খরচ হবে সেগুলো সমস্ত হাসপাতাল কিংবা বিভিন্ন ডায়াগনোসিস সেন্টার গুলিতে সমান হয়না । শুধু তাই নয় একজন ব্যক্তির বয়স ,তার চাহিদা এবং একজন ডাক্তারের পরামর্শে কি কি পরীক্ষা করতে হবে এই সব গুলোর ওপরেও নির্ভর করে । বিশেষত আমাদের নিজ দায়িত্বে এই পরীক্ষা গুলি করতে হবে ।একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা "প্রিভেনটিভ হেলথকেয়ার" এর অধীনে পড়ে এবং এটির মধ্যে যেসব পরীক্ষা গুলি করতে হয় সেটির একটি তালিকা নিচে দেওয়া হল ।কিন্তু একটি কথা সব সময় আমাদের মনে রাখতে হবে এই সমস্ত পরীক্ষার বিভিন্ন পরিমাপ গুলি বয়স, লিঙ্গ এর ওপর নির্ভর করে ।

  •  রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে একটি সম্পূর্ণ শরীর পরীক্ষা:

একজন ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা জানতে প্রথমে আমরা রক্ত পরীক্ষা করে থাকি ।রক্তের যে বিভিন্ন উপাদান গুলি থাকে সেগুলি আমাদের মানব শরীরে ঠিক কতটা পরিমাণে থাকলে আমরা সুস্থ্য থাকবো সেটির একটি ধারণা নিচের ছকে দেওয়া হলো ।

পরীক্ষার নামপরীক্ষিত উপাদানের নামমানব শরীরে এর সঠিক পরিমাণ

শরীরে সম্পূর্ণ রক্তের পরিমাপ 

 ( CBC)

শ্বেত রক্ত কণিকা ( WBC)৩৫০০-১০৫০০ সেলস/ মাইক্রলিটার
লোহিত রক্ত কণিকা (RBC)

পুরুষ : ৪.৩২-৫.৭২ লক্ষ সেলস/ মাইক্রলিটার 

নারী : ৩.৯০-৫.০৩ লক্ষ সেলস/ মাইক্রলিটার

হিমোগ্লোবিন

পুরুষ : ১৩.৭৫-১৭.৫ গ্রাম/ডেসিলিটার 

নারী : ১২-১৫.৫ গ্রাম/ডেসিলিটার

থাইরয়েড ফাংশান পরীক্ষাট্রাইয়োডোথাইরোনিন (T3)১০০-২০০ ন্যানোগ্রাম/ ডেসিলিটার
থাইরক্সিন (T4)৫-১২ মাইক্রোগ্রাম / ডেসিলিটার
থাইরয়েড উত্তেজক হরমোন ( TSH)০.৪-৪ মিলি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট/ লিটার
কোলেস্টরল পরিমাপউচ্চ ঘনত্বের লিপোপ্রোটিন ( HDL)

>৬০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার (high) 

পুরুষ : <৪০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার (low)

নারী : <৫০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার (low)

গ্লুকোজ পরিমাপউপবাস রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা৭০-১০০ মিলিগ্রাম / ডেসিলিটার
সাধারণ রক্তের গ্লুকোজ মাত্রা< ১২৫ মিলিগ্রাম / ডেসিলিটার
  • লিভারের কর্মক্ষমতা দেখার জন্য লিভার প্যারামিটার এর পরীক্ষা :

আমাদের মানব শরীরে লিভার একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ । অনেক সময় এই লিভারের অনেক রকম সমস্যা দেখা যায় । যখন এই রকম অনেক সমস্যা দেখা যায় তখন নিম্নলিখিত যে সব পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে সেই সব পরীক্ষা গুলি করতে হয় এবং লিভার এর কর্মক্ষমতা বা ঠিক ঠাক কাজ করছে কিনা এই পরীক্ষা গুলি পরিমাপ করে ।

পরীক্ষার নামমানব শরীরে এর সঠিক পরিমাণ
অ্যালানাইন ট্রান্সমিনেজ টেস্ট (ALT)৭-৫৫ ইউনিট/ লিটার
অ্যাসপার্টেট অ্যামিনোট্রান্সফেরেজ টেস্ট (AST)৪০ ইউনিট/ লিটার পর্যন্ত
আলকালিন ফসফেটেস (ALP)

৪৪-১৪৭ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট/ লিটার)

অথবা ৩০-১২০ ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট/ লিটার

অ্যালবুমিন৩.৫-৫.৫ গ্রাম/ ডেসিলিটার
বিলিরুবিন ( total)০.১-১.২ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার
  • কিডনির কার্যকারিতা ও কর্মক্ষমতা পরীক্ষার জন্য ইউরিন টেস্ট 

কিডনি এর সমস্যা এখনকার সময়তে দিন দিন বেড়েই চলেছে । কিডনিতে কোনো সমস্যা আছে কিনা সেটি ল্যাব-তে প্রস্রাবের মূল্যায়ন করে জানতে পারা যায়।শুধু মাত্র যে কিডনির সমস্যা তাই নয় ;কিডনির সঙ্গে সরাসরি ভাবে ভাবে হয়তো যুক্ত নয় এমন কিছু সমস্যা যেমন ডায়াবেটিস অথবা লিভার এর সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদেরও ইউরিন টেস্ট করতে পরামর্শ দেন ডাক্তাররা। অনেকেই কিডনি তে পাথর হওয়াই অনেক সমস্যায় ভোগেন সেটি দুর করতে প্রস্রাবের খনিজ মূল্যায়ন সহ মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষা করা হয় যেটি কিডনিতে পাথরের মতো বড় কিডনির সমস্যা দূর করতে পারে।

পরীক্ষার নামমানব শরীরে এর সঠিক পরিমাণ
গ্লোমেরুলার ফিল্টারেশন রেট ( GFR)৬০ এবং তার ওপরে ( ৬০-১২০)
ইউরিন ক্রিয়েটিনিন

পুরুষ :২৪ ঘণ্টায় ৯৫৫- ২৯৩৬ মিলিগ্রাম

 নারী: ২৪ ঘণ্টায় ৬০১- ১৬৮৯ মিলিগ্রাম

ইউরিক অ্যাসিড

পুরুষ : ৩.৪- ৭.০ মিলিগ্রাম/ ডেসিলিটার

নারী : ২.৪-৬.০ মিলিগ্রাম / ডেসিলিটার

ইউরিন অ্যালবুমিন৩০ মিলিগ্রাম/ গ্রামের চেয়ে কম
ইউরিয়া২৪ ঘণ্টায় ১২-২০ গ্রাম
  • ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাফি ( ECG) : হার্টের অস্বাভাবিকতা পরীক্ষা করার জন্য

মানব শরীরে হৃৎপিন্ডে কোনরকম অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে ডায়াগনোসিস সেন্টার গুলোই সাধারণ ভাবে ইলেক্ট্রোকার্ডিওগ্রাম বা ইসিজি এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয় । এই পরীক্ষা গুলি মূলত কোনো রকম ব্যাথা ছাড়াই করা হয় । এই পরীক্ষা গুলোর মাধ্যমে নিম্নলিখিত মূলত দুটি সমস্যার অস্বাভাবিকতা সনাক্ত করা হয় । যথা :-

 ধমনীতে বাধা : এর প্রধান লক্ষণগুলি হলো অতিরিক্ত বুকে ব্যাথা , ঘেমে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট ইত্যাদি । ধমনীতে বাধা সৃষ্টির কারণে হার্ট এ্যাটাক, স্ট্রোক এমন কি মৃত্যু পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে । যদি এরম কোনো লক্ষণ দেখা দেয় তাহলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমাদের উচিত ECG এর মাধ্যমে পরীক্ষা করে নেওয়া । যদি হৃৎপিণ্ড-এর কোনো ধমনীতে বাধা থাকে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে চলাই শ্রেয়।

অস্বাভাবিক হৃৎপিণ্ড ছন্দ- হার্ট অ্যারিথমিয়া : একটি সাধারণ মানুষের হৃৎপিণ্ড বিভিন্ন কারণে কখনো খুব তাড়াতাড়ি কখনো আস্তে চলে । সাধারণত খেলাধুলা শরীরচর্চা করলে হৃৎপিণ্ড খুব তারাতারি চলে । কিন্তু যদি অস্বাভাবিক ভাবে এরকম খুব তারাতারি বা খুব আস্তে হৃৎপিণ্ড চলে তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত । এই অস্বাভাবিক ভাবে চলার কারণে অনেক সময় হার্ট অ্যাটাক বা মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ।

  • দৃষ্টি সংশোধনের জন্য চোখের পরীক্ষা:

বর্তমান সময়ে প্রায় সকলের চোখেই চশমা দেখা যায় । অনেকের জন্মগত ভাবেই এই দৃষ্টির সমস্যা থাকে । চোখ এমনি জিনিস যেটি ছাড়া আমরা একটা পাও ফেলতে পারেনা । প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুদের মধ্যে দৃষ্টি বিকৃতির উপস্থিতি মূল্যায়ন করার জন্য দৃষ্টি পরীক্ষা করা অতি আবশ্যক । ডিজিটাল ভাবে চোখের নির্ভুল পরীক্ষার মাধ্যমে দৃষ্টি সংশোধন করা যায় । 

 সবার হাতেই এখন মোবাইল ফোন যেটির কারণে স্ক্রীন টাইম বৃদ্ধি তার সাথে চোখের ওপর চাপের সৃষ্টি হয় , যার কারণে ছোট থেকেই দৃষ্টিশক্তিতে ত্রুটি সৃষ্টি করে এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের স্ক্রীন টাইম এর পাশাপাশি মানসিক চাপ চোখের সমস্যার সৃষ্টি করে । 

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ অফথামলোজি প্রাপ্তবয়স্কদের ৪০ বছর বয়সে চোখের বিভিন্ন রোগ এবং বয়সজনিত কারণে দৃষ্টি পরিবর্তন শনাক্ত করতে সম্পূর্ণ চোখের পরীক্ষা করার পরামর্শ দেয়। এছাড়াও উচ্চ রক্তচাপ , ডায়াবেটিস এবং চোখের রোগে পারিবারিকভাবে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অবশ্যই পর্যায়ক্রমে চোখের পরীক্ষা করতে হবে এবং ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে হবে ।

  • অতিরিক্ত রক্ত পরীক্ষা

বিভিন্ন ল্যাব বা হাসপাতালে আমাদের শরীর থেকে রক্তের একটি নমুনা নিয়ে সেগুলি পরীক্ষা করা হয় । ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন পরীক্ষা যেমন সুগার , গ্লুকোজ , হিমোগ্লোবিন ইত্যাদি মূল্যায়ন করা হয় । সাধারণ ভাবে দেখলে এটির অত গুরুত্ব বোঝা যায় না কিন্তু অনেক রোগ বা সমস্যার শনাক্তকরণে এগুলি সাহায্য করে । নিম্নে কয়েকটি পরীক্ষার নাম ও শরীরে তার উপযুক্ত পরিমাণ দেওয়া হলো ।

পরীক্ষার নামমানব শরীরে এর সঠিক পরিমাণ
সিরাম ক্যালসিয়াম৯৬-১০৬ মিলিকুইভালেন্টস/ লিটার অথবা ৯৬-১০৬ মিলিমোল/ লিটার
সিরাম ফসফরাস

৩.৪-৪.৫ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার অথবা

১.১২- ১.৪৫ মিলিমোল/লিটার

সিরাম ইলেকট্রোলাইটসসোডিয়াম : ১৩৬- ১৪৬ মিলিকুইভালেন্টস/ লিটার অথবা ১৩৬-১৪৬ মিলিমোল/ লিটার
ক্লোরাইড : ৯৬-১০৬ মিলিমোল/ লিটার

পটাশিয়াম : ৩.৫- ৪.৫ অথবামিলিকুইভালেন্টস/ লিটার অথবা

৩.৫- ৪.৫ মিলিমোল/লিটার

হেপাাইটিস B 

সারফেস অ্যান্টিজেন

(HbsAg)

<৫ মিলি ইন্টারন্যশনাল ইউনিট = নেগেটিভ

>১২ মিলি ইন্টারন্যশনাল ইউনিট = পজিটিভ

৫ থেকে ১২ মিলি ইন্টারন্যশনাল ইউনিট = অনিশ্চিত এবং পুনরাবৃত্তি করা উচিত

প্রোস্টেট-স্পেসিফিক অ্যান্টিজেন (PSA- পুরুষদের জন্য)১.০-১.৫ ন্যানোগ্রম/ মিলিলিটার
  • অন্যান্য সাধারণ পরীক্ষা

ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অন্য যেসব পরীক্ষা গুলো করা হয় সেগুলি হলো :

  1. মল পরীক্ষা : আমাদের শরীরে ভেতরে কোনো রকম ইনফেকশন বা হজমের সমস্যা বা অ্যালার্জি হলে মল পরীক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয় । 
  2. ECG ( Resting) : বাম ভেন্ট্রিকুলার হাইপারট্রফি এবং শাখা বান্ডিল ব্লক সহ অস্বাভাবিকতা সনাক্ত করতে পারে এবং হৃদরোগ আছে কিনা সেটি দেখতেও এই পরীক্ষা করা হয় ।
  3. মহিলাদের জন্য প্যাপ স্মিয়ার : অনেক সময় মহিলাদের জরায়ুতে অস্বাভাবিকতা দেখা যায় । ডাক্তাররা ছোট ব্রাশ এর মাধ্যমে জরায়ুর পৃষ্ঠ এবং এর চারপাশের এলাকা থেকে কোষগুলিকে আলতো করে সরিয়ে ফেলে মাইক্রোস্কোপ এর মাধ্যমে তারা পরীক্ষা করেন । এই পরীক্ষার মাধ্যমে জরায়ুতে কোষের পরিবর্তন বা ক্যান্সার হয়েছে কিনা সেটা দেখা হয় ।
  4. পেটের আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্রীনিং: পেটের কোনো সমস্যা যেমন হটাৎ করে পেট ফোলা কিংবা পেটে খুব যন্ত্রণা হলে ডাক্তাররা আল্ট্রাসাউন্ড স্ক্রিনিং করার নির্দেশ দেন । এটি কিডনি তে পাথর , লিভার এর সমস্যা কিংবা টিউমার এর মত সমস্যা ধরতে সাহায্য করে । 
  5. বুকের এক্স-রে : হটাৎ করে বুকে ব্যাথা বা সমস্যা দেখা দিলে আমাদের বুকের কাঠামো এবং তার ভেতরের অঙ্গ যেমন ফুসফুস , হৃৎপিণ্ড ঠিকমতো কাজ করছে কিনা সেটি দেখতে এই পরীক্ষাটি করা হয় ।
  6. ট্রেডমিল টেস্ট (TMT) বা কার্ডিয়াক স্ট্রেস টেস্ট : এই পরীক্ষার মাধ্যমে আমাদের হৃৎপিণ্ড অস্বাভাবিক ছন্দ বা পেশি তে রক্ত প্রবাহ কমে যাওয়ার আগে কতক্ষন ঠিক মতো কাজ করছে সেটি দেখা হয় । একটি ট্রেডমিল তে আমাদের হাঁটতে বলা হয় এবং ধীরে ধীরে তার গতি বাড়ানো হয় এবং ডাক্তাররা পরীক্ষা করেন আমাদের হৃৎপিণ্ড কতটা চাপ সহ্য করতে পারে ও প্রতিক্রিয়া কি দিচ্ছে ।
  7. পালমোনারি ফাংশন টেস্ট : ফুসফুস ঠিক মত কাজ করছে কি না সেটি পরীক্ষা করার জন্য এই টেস্টটি করা হয় । ফুসফুস এর আয়তন , তার ছন্দ , বাতাস আদান প্রদানের হার , তার ক্ষমতা সব কিছুই এই পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হয় । এটির দ্বারা ফুসফুস এর কোনো রোগ নির্ণয় এবং এর প্রতিকার এর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ।
  8. ইকোকার্ডিওগ্রাম : ইকো বা একটি উচ্চ তরঙ্গ ব্যাবহার করে হৃৎপিণ্ড এর অবস্থার একটি ছবি দেখানো হয় যেখানে আমাদের হৃদস্পন্দন এবং রক্ত পাম্পিং দেখতে পাওয়া যায় । হৃৎপিণ্ড এর যদি কোনো রোগ থেকে থাকে তাহলে এই ইকোকার্ডিওগ্রাম পরীক্ষার দ্বারা সনাক্ত করা হয় ।
  9. ম্যামোগ্রাম (স্তনের এক্স-রে) - এই পরীক্ষার মাধ্যমে ডাক্তারেরা স্তন- ক্যান্সার এর কোনো চিহ্ন আছে কিনা সেটি কিছুটা আগে থেকেই সনাক্ত করতে পারেন ।

সমস্ত শারীরিক পরীক্ষার খরচ 

সাধারণত বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকম চাহিদা অনুযায়ী শারীরিক পরীক্ষা করা হয় এবং এর খরচ নির্ধারিত করা হয় । এক একটি ডায়াগনোসিস সেন্টার এর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এক একরকম প্যাকেজ থাকে । রোগীর প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী এবং সামগ্রিক স্ক্রীনিং পরিকল্পনা অনুযায়ী রেডক্লিফ ল্যাব ( Redcliff Labs ) তাদের সুবিদার্থে মোট ৯ টি প্যাকেজ এর ব্যবস্থা করেছে । এই প্যাকেজ গুলি মূলত নিম্ন লিখিত তিনটি বিশিষ্ট এর ওপরে নির্ভর করে করা হয়েছে । যথা -

  •  দ্রুত পরিবর্তনের সময় ।
  • রোগীদের সুবিধার্থে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী পৃথক পৃথক ভাবে প্যানেল রিপোর্ট করা ।
  • প্রতিটি পরীক্ষা পৃথক পৃথক ভাবে নেওয়া যাতে করে অন্যান্যদের থেকে তুলনামূলক ভাবে খরচ কম হয় ।

রেডক্লিফ ল্যাব (Redcliff Labs) - এর তরফ থেকে ফুল বডি চেকআপ এর যে নির্ধারিত মূল্য ধার্য করা হয়েছে সেটি নিম্নে দেওয়া হলো :

ফুল বডি চেকআপ - এর প্যাকেজকত গুলি পরীক্ষা করা হবেনিয়মিত মূল্য/ছাড় মূল্য
প্রাইম ফুল বডি চেক৭১২১৯৯ টাকা / ৩৯৯ টাকা
স্পেশাল ফুল বডি প্যাকেজ৭৭১৩৯৯ টাকা / ৫৪৯ টাকা
স্মার্ট ফুল বডি চেকআপ৮০১৪৯৯ টাকা / ৬৯৯ টাকা
RA ফ্যাক্টর এর সাথে স্মার্ট ফুল বডি চেকআপ৮১১৯৯৭ টাকা / ৭৯৯ টাকা
HIV 1 এবং 2 অ্যান্টিবডি সহ সম্পূর্ণ বডি স্ক্রীনিং ৮২২২৪৮ টাকা / ৮৪৯ টাকা
HbA1c দিয়ে স্মার্ট বডি চেকআপ৮২২১২৫ টাকা / ৮৫০ টাকা
ভিটামিন স্ক্রীনিং সহ স্মার্ট ফুল বডি৮২২৪৯৯ টাকা / ৮৯৯ টাকা
মোট IgE সহ স্মার্ট ফুল বডি চেকআপ৮১২২৪৮ টাকা / ৮৯৯ টাকা
C রিঅ্যাক্টিভ প্রোটিন টেস্ট সহ স্মার্ট ফুল বডি চেকআপ৮১২২৪৮ টাকা / ৮৯৯ টাকা

করোনা পরবর্তী সময়ে এই মুহূর্তে সারা ভারতে একমাত্র রেডক্লিফ ল্যাব (Redcliff Labs) খুব তারাতারি তার ডায়াগনোসিস সেন্টার গুলিকে মানব কল্যাণের জন্য বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তার লাভ করিয়েছে l এছাড়াও মানুষের সুবিধার্থে রেডক্লিফ ল্যাব (Redcliff Labs) সম্পুর্ন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে মুল্যে বিশেষ ছাড় দেয়।

 শারীরিক সমস্যার সমাধান এর জন্য মানুষ বিশ্বাসযোগ্য স্বাস্থ্য পরীক্ষা কেন্দ্র বা ডায়াগনোসিস সেন্টার গুলোর খোঁজ করে । তাই আমাদের মনে বিভিন্ন রকম প্রশ্ন ঘোরা ফেরা করে । তার মধ্যে যেটি গুরুত্বপূর্ণ সেটি হলো একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার মধ্যে কত গুলি টেস্ট করা হয় । বিশেষত একটি সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য চেকআপ তে সাধারণত ৭০ টি টেস্ট করা হয় । কিন্তু, উন্নত প্যাকেজগুলিতে বা যেখানে কিছু স্পেশাল অফার থাকে সেখানে কার্ডিও এবং পালমোনারি পরীক্ষা, সম্পূর্ণ রক্ত পরীক্ষা , ডায়াবেটিস, কোলেস্টেরল, লিভার (হেপাটিক), কিডনি (রেনাল), থাইরয়েড, ভিটামিন, আয়রন এবং অন্যান্য এনজাইমের মতো মৌলিক স্বাস্থ্যের অবস্থা স্ক্রীনিং সহ প্রায় ৮২ টি পরীক্ষা থাকে।

 আরও একটি প্রশ্ন আমাদের মাথায় ঘরে যে যদি আমরা সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা করি তাহলে কখন খাবার খেতে হবে । যদিও এটি ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে করাই উচিত । তবুও সাধারণ ভাবে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার অন্তত ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আগে আমাদের খাবার খেয়ে নিতে হবে । তবে হ্যা এই সময় টুকু তে জলই একমাত্র পানিও যেটি খাওয়া যেতে পারে । এতে অসুবিধার তুলনায় সুবিধা আছে , জল তলপেটের আল্ট্রাসাউন্ড এবং প্রস্রাব এর পরীক্ষা মূল্যায়ন আরও ভালভাবে সাহায্য করতে পারে । 

এছাড়াও স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়ে যাওয়ার কত দিন পর আমরা রিপোর্ট পাবো , কিভাবে সংগ্রহ করবো এবং তারপরের পদক্ষেপ কি নেওয়া উচিত এই প্রশ্নও থাকে ।রেডক্লিফ ল্যাব (Redcliff Labs)- তে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত মেডিক্যাল টিম এর দ্বারা আমাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং তার রিপোর্ট তৈরি করা হয় । একমাত্র রেডক্লিফ ল্যাব (Redcliff Labs) এর অধীনে যতগুলো ডায়াগনোসিস সেন্টার আছে তারা সব চেয়ে কম সময় মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট দিয়ে দেয় । সব চেয়ে কম সময়ে পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়াতে জনগণের মধ্যে এই সংস্থার চাহিদা বেড়েই চলেছে । এই সংস্থার দ্বারা রোগীর রিপোর্ট সময় মতো রোগীর কাছে অনলাইন এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয় । তবে রোগী চাইলে তার রিপোর্ট সেই সেন্টারে গিয়ে সংগ্রহ করতে পারে। স্বাস্থ্য পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়ে গেলে সেগুলো ডাক্তার কে দেখানোর ব্যবস্থা করতে হবে । তিনি সেই রিপোর্ট অনুযায়ী চিকিৎসা এবং উপযুক্ত ঔষদ দেবেন । 

উপসংহার

বর্তমান সময়ের যা পরিস্থিতি তাতে আমাদের সবার উচিত নিয়মিত ভাবে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী সম্পূর্ণ শারীরিক পরীক্ষা করা উচিত । আমাদের শরীরে যদি কোনো রকম সমস্যা বা কোনো কিছুর ঘাটতি বা কোনোকিছু অতিরিক্ত থাকে , এই সামান্যতম পরিবর্তন গুলি সপূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনাক্ত করতে পারা যাবে । এছাড়াও শরীরের প্রতিটি অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ঠিক মত কাজ করছে কিনা , তাদের রাসায়নিক জৈবিক এবং শারীরিক মূল্যায়ন করা হয় । যখন সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়ে যায় তখন তার রিপোর্ট গুলি একজন চিকিৎসক অথবা একজন মেডিক্যাল স্বাস্থ্য পেশাদার এর দ্বারা চেক করা হয় এবং প্রয়োজনে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

রেডক্লিফ ল্যাব ( Redcliff Labs ) বর্তমান সময়ে ভারতে সব চেয়ে জনপ্রিয় ডায়াগনোসিস সেন্টার । অনেক কম খরচে সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য চিকিৎসা করে এই ডায়াগনোসিস সেন্টার এবং বাড়ি থেকে নমুনা সংগ্রহ পরিষেবার জন্য বিশেষ ভাবে গোটা দেশে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে । রেডক্লিফ ল্যাব ( Redcliff Labs) এমন একটি জায়গা যেখানে সমস্ত শরীর পরীক্ষা করাটা একজন রোগীর পক্ষে সম্পূর্ণভাবে বিশ্বাসযোগ্য ।এর ফলস্বরূপ এই সংস্থা একটি সুস্থ্য সমাজ গড়ে তুলতে সাহায্য করে ।

Leave a comment

Consult Now

Share MyHealth Blog